যেসব কারণে পদত্যাগ করলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

মার্চ মাসে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সং’ক্র’মণ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই প্রাদু’র্ভাব মো’কাবেলায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নেয়া প’দক্ষে’পের কার্যকারিতা, কর্তৃপক্ষের নিজেদের মধ্যে সমন্বয়হী’নতার অ’ভিযো’গ,

তথ্য লু’কানোর অ’ভিযোগের মত নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা-স’মালো’চনা ছিল স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বি’রু’দ্ধে।

মঙ্গলবার (২১শে জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ পদত্যা’গ করার পর আবারো আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে সেই বিষয়গুলো।

মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ এমন একটা সময় পদত্যা’গ করলেন যখন করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ফল নিয়ে জালিয়াতি করা রিজেন্ট হাসপাতাল কীভাবে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা ও চিকিত্‍সার অনুমোদন পেয়েছিল, তা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মধ্যে বিত’র্ক চলছে।

করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় জালিয়াতির অ’ভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত ৭ই জুলাই ঢাকায় রিজেন্ট হাসপাতালে র‍্যাবের অ’ভিযা’নের পর ব’ন্ধ করে দেয়া হয় হাসপাতাল।

রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে অনি’য়মের অ’ভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতাল ব’ন্ধ করে দেয়া হলে মন্ত্রী জানান যে অধিদফতরের আমন্ত্রণেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।

অন্যদিকে মহাপরিচালক দাবি করেছিলেন যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দে’শেই তারা চু’ক্তিটি করেছিলেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়ে দ্ব’ন্দ্বে জড়ালে মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মধ্যে দ্ব’ন্দ্বের বিষয়টি জনসমক্ষে আসে, যেটিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদত্যা’গের একটি কারণ হিসেবে মনে করছেন অনেকে।

তবে সম্প্রতি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের অভ্য’ন্তরীন দ্ব’ন্দ্বের এই খবর প্রকাশিত হওয়ার আগেও বেশ কয়েকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হী’নতা ও কার্যক্রম পরিচালনায় অস্ব’চ্ছতার বিষয়টি সামনে এসেছে। মার্চ মাসে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সং’ক্র’মণ ছড়িয়ে পড়ার পর যথেষ্ট পরিমাণ পরীক্ষা না করা, তথ্য গো’পন করা থেকে শুরু করে নানারকম অ’ভিযো’গ ওঠে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বি’রু’দ্ধে।

আরো পড়ুনঃ   কুড়িগ্রামে লাইকি ভিডিও বানাতে গিয়ে মুখ পোড়াল তরুণ

তবে কর্তৃপক্ষের নিজেদের মধ্যে সমন্বয়হী’নতার বিষয়টি প্রথমবার জনসমক্ষে প্রকাশিত হয় এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে, যখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এক বৈঠকে বক্তব্য রাখার সময় আক্ষে’প করে বলেন যে করোনা ভাইরাস সং’ক্র’মণ ঠে’কাতে তৈরি করা জাতীয় কমিটির তিনি প্রধান হলেও সেই কমিটির নেয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি জানেন না। সেসময় এক বৈঠকে তিনি বলেছিলেন যে, এই জাতীয় কমিটিতে যে সমস্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তার কিছুই কমিটির চেয়ারম্যানকে জানানো হয় না।

এরপর দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত, ঈদে যাতায়াত করতে দেয়ার অনুমতির মত বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল কমিটির সত’র্কবার্তা সত্ত্বেও ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়ায় টেকনিক্যাল কমিটির সাথে সরকারের সমন্বয়হী’নতার বিষয়টি নিয়ে সমালো’চনা ছিল বিভিন্ন মহলে। এর পাশাপাশি মাস্ক নিয়ে দুর্নী’তির অ’ভিযো’গ ওঠার পর কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালককে বদলি, আইইডিসিআরের কাছ থেকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার দায়িত্ব সরিয়ে নেয়ার মত ঘ’টনাগুলোও বেশ আলোচনার তৈরি করেছিল।

করোনা ভাইরাস আত’ঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালগুলোতে চিকিত্‍সা না পাওয়া, রোগী দেখার ক্ষেত্রে চিকিত্‍সকদের অ’বহে’লা, ভিআইপি’দের জন্য আলাদা হাসপাতাল এবং কিছু হাসপাতালের সরকারি নির্দে’শনা না মা’নার অ’ভিযোগের খবর প্রকাশিত হয়, যা সেসময় সরকারকেও যথেষ্ট বি’ব্র’ত করেছিল। এরকম প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের উচ্চ পর্যায়ে যে বড় ধ’রণের পরিবর্তন আসবে তা কিছুটা অনুমেয় ছিল।

জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলামকে ব’দলি করার মাধ্যমে শুরু হয় সেই পরিবর্তনের। সচিবের ব’দলির সপ্তাহখানেকের মধ্যেই মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন অতিরিক্ত সচিব এবং উপসচিবকেও ব’দলি করা হয়। এরপর জুন মাসের মাঝামাঝি সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের করা একটি মন্তব্যের জবাবে সরকারের একজন মন্ত্রী এবং নেতা নে’তিবাচক মন্তব্য করায় প্রথমবার মহাপরিচালকের বি’রু’দ্ধে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের অস’ন্তুষ্টির আভাস পাওয়া যায়।

জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে আবুল কালাম আজাদ মন্তব্য করেছিলেন যে বাংলাদেশে সং’ক্র’মণ ‘দুই থেকে তিন বছর ধ’রে চলতে পারে’, যেই মন্তব্যকে ”দায়িত্বজ্ঞানহী’ন” বলে মন্তব্য করেছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ঐ ঘ’টনার কিছুদিন পরেই করোনা ভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে জেকেজি হেলথকেয়ার নামক একটি প্রতিষ্ঠানের বি’রু’দ্ধে জা’লিয়া’তির অ’ভিযো’গ ওঠে এবং কীভাবে ঐ প্রতিষ্ঠান কোভিড পরীক্ষার অনুমোদন পেল, তা নিয়ে ব্যা’পক সমালো’চনার মুখে পড়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আরো পড়ুনঃ   আত্মীয়র দেয়া বর্ণনায় উঠে এলো পূর্ণিমা’র ডুবে যাওয়ার করুণ কাহিনী

জেকেজি কেলে’ঙ্কারির ঘ’টনার কিছুদিন পরই রিজেন্ট হাসপাতালের জা’লিয়া’তি আর কেলে’ঙ্কারির ঘ’টনা সামনে আসে, যেটির ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে কারণ দর্শা’নোর নোটিশও দেয়া হয়। রিজেন্ট হাসপাতাল এবং এর মালিক মো: সাহেদের বি’রু’দ্ধে প্রতা’রণার নানা অ’ভিযোগ যখন ওঠে, তখন হাসপাতালটির লা’ইসেন্স না থাকার পরও এর সাথে সরকারের চুক্তি করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

নানা প্রশ্ন এবং আলো’চনার মুখে এক সংবাদবিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দে’শে চুক্তিটি করা হয়েছিল। এই বক্তব্যের ব্যাপারেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে কারণ দর্শানোর নো’টিশ দিয়ে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলেছিল।

কারণ দর্শা’নোর নোটিশের বিপ’রীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জবাব দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই প’দত্যা’গ করলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। অনেকে মনে করেন বাংলাদেশে করোনা পরি’স্থিতি নিয়’ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বারবার দুর্নী’তি, অনি’য়ম, জা’লিয়া’তির অ’ভিযো’গ ওঠায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওপর সরকারের উপর মহল থেকে ক্র’মশ চা’প বাড়ছিল, যার ধারাবাহিকতায় মহাপরিচালকের এই সিদ্ধান্ত। সূত্র : বিবিসি বাংলা

Check Also

ইঁদুর কুচিকুচি করল এটিএম বুথে রাখা সাড়ে ১২ লাখ টাকা!

স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ ওঠানোর যন্ত্রে (এটিএম) রাখা প্রায় সাড়ে ১২ লাখ রুপি কেটে ফেলেছে ইঁদুরের দল। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *